নিষিদ্ধ_প্রণয়
পর্বঃ১৪
সুমি আক্তার
(১৮+ এলার্ট! সম্পুর্ন প্রাপ্তবয়স্ক এবং মুক্ত মনস্কদের জন্য উন্মুক্ত।)
ধুপধাপ পা ফেলে সোজা দোতলায় চলে গেলো কৌশিক। সিঁড়ি ধরে উপরে উঠে সবার আগে উঁকি দিলো তুবার ঘরে। দড়জাটা অল্প করে চাপানো ছিলো। আধখোলা দড়জার ফাঁক গলিয়ে দেখা যাচ্ছে বিছানায় মুখ ফুলিয়ে বসে থাকা তুবা। কোনো কারণে মেয়েটা রেগে আছে। কৌশিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। ভেতরে ঢুকে আলতো হাতে দড়জা চাপিয়ে দিলো। পায়ের আওয়াজ শুনে তুবা ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে। কাছাকাছি পৌঁছাতেই অতর্কিত আক্রমণে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো কৌশিক। তুবা কৌশিকের বুকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুসি মারতে মারতে বললো,
"অসভ্য লোক। নির্লজ্জ মানুষ। বড় চাচ্চুর সামনে ওসব বলতে গেলের কেনো? দিন ক্ষনও তাকে জানাতে হবে? এখন আমি সবার সামনে যাবো কিভাবে?"
এলোমেলো হাত ছুড়তে ছুড়তে বলতে লাগলো তুবা। কৌশিক তুবার হাত দুটো খপ করে ধরে পেছনে মুড়িয়ে নিলো। তুবার বুক ঠেকলো কৌশিকের বুকে। কৌশিক নিজের সাথে তুবাকে আটকে ধরে হেয়ালি সুরে বললো,
"খারাপ কি বলেছি? এমনিতেই তোর বড় চাচ্চু চিন্তায় বুকে হাত চেপে ধরে আছে। এখন আবার তোর প্রেগনেন্সির সময় নিয়ে চিন্তা করছে। অতিরিক্ত চিন্তায় যদি হার্ট অ্যাটাক হয়? তাই জানিয়ে দিলাম। তার উপকারই তো করলাম।"
"খুব উপকার করেছেন। নির্লজ্জ মানুষ।"
এটুকু বলে মুখ ডানে ঘুরিয়ে নিলো তুবা। চিকন ভ্রুদ্বয় কুঁচকে রেখে বোঝাচ্ছে কৌশিকের লাগাম ছাড়া কথার জন্য তুবা খুবই বিরক্ত। সেই বিরক্তিতে পাত্তা দিলো না কৌশিক। তুবার ঘুরিয়ে রাখা মুখে শব্দ করে চুমু খেলো। তুবা তবুও মুখ ঘুরালো না। কৌশিক একই গালে আবারও চুমু খেলো। তুবার রাগ পড়ছে না দেখে একের পর এক চুমু দিতেই থাকলো। এক পর্যায়ে তুবা আর মুখ ফুলিয়ে থাকতে পারলো না। ফিক করে হেঁসে দিয়ে হাতের তালু দিয়ে গাল মুছলো। গালটা কেমন যেনো ভেজা ভেজা অনুভব হচ্ছে।
তুবাকে হাসতে দেখে কৌশিকের ঠোঁটেও হাসি ফুটে উঠলো। কৌশিক একটু শক্ত করে তুবাকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলো৷ কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"আমার অংশ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিস জান। অথচ আমাকেই জানালি না?"
"আমি নিজেও তো জানতাম না। হসপিটালে না গেলে কি এ কথা ফাঁস হতো?
"তুই একটা আস্ত বলদ। পিরিয়ড মিস গেছে কতদিন হলো?"
"দুই দিন।"
"আমাকে বলিসনি কেনো?"
"কি বলবো? দুই তিন দিন মিস যাওয়া তো স্বাভাবিক ব্যপার।"
কৌশিক জবাব দিলো না। শান্ত চোখে তাকিয়ে রইলো। তুবা আগ বাড়িয়ে প্রশ্ন করলো,
"আপনি কি রাগ করেছেন আমার ওপর?"
"তোর ওপর রাগ করে থাকতে পেরেছি কোনোদিন?"
তুবা চুপ হয়ে গেলো। কয়েক সেকেন্ড বিরতি নিলো। এরপর কৌশিকের চোখে চোখ রেখে বলল,
"আপনি খুশি কৌশিক ভাই?"
"কলিজা চিরে দেখালে তবে বুঝতে পারবি, আমার খুশির পরিধি ঠিক কতটুকু?"
তুবা এবার পুরোপুরি চুপ হয়ে গেলো। কৌশিকের মুগ্ধ চাহনি তুবার বুকে শীতলতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। আস্তে আস্তে মাথাটা নিচে নামালো তুবা। কৌশিকের অর্ধ উন্মুক্ত বুকে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়াল। কৌশিক তৎক্ষনাৎ চোখ বন্ধ করে নিলো। দুই হাত মুঠো করে শক্ত হয়ে দাঁড়ালো। কন্ঠ কাঁপছে,
"জান প্লিজ! ঠোঁট ছোঁয়াবি না। তোর ঠোঁটে আফিমের নেশা আছে। আমি বেসামাল হয়ে যাই। ভেতরে আগুন জ্বলে উঠে।"
তুবার যেনো কৌশিককে জ্বলানোর ইচ্ছে জেগেছে। কৌশিকের বারনকে পাত্তা না দিয়ে বুকে ঠোঁট চেপে ধরলো। আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে ঠোঁট ঘুরিয়ে বুক থেকে গলায় নিলো। কৌশিক হাসফাস করছে। মেয়েটা ওকে জব্দ করার উপায় বেশ ভালোই বুঝে গেছে। সহ্য করতে না পেরে তুবাকে সাথে সাথে ছেড়ে দিলো কৌশিক। কয়েক কদম পিছিয়ে গিয়ে ধপ করে খাটের ওপর বসে পড়লো। জোরে জোরে শ্বাস টেনে নিজের অনুভুতিতে লাগাম লাগালো কৌশিক। দামামা বাজতে থাকা বুকে হাত চেপে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
"খুব বেশি দুষ্টু হয়ে গেছিস তাই না?"
"আপনার থেকেই শিখেছি।"
বলেই চোখ টিপলো তুবা। কৌশিক আর সেখানে থাকলো না। ধুপধাপ পা ফেলে বেরিয়ে গেলো। এখানে থাকলে পাজি মেয়েটা ওকে উষ্কে দেবে। আর তুবার উস্কানি পেলে কৌশিক পাক্কা নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাবে।
-
-
রাতে তুবা আর খেতে নিচে নামেনি। লজ্জায় নিজেকে ঘরবন্দী করে নিয়েছে। ময়না বেগম প্লেটে করে খাবার এনে নিজের হাতে মেয়েকে খাইয়ে দিয়ে গেলেন। খানিক্ষন মাথায় হাতও বুলিয়ে দিয়েছেন। হসপিটালে গায়ে হাত তোলার জন্য অপরাধবোধে তিনি বেশ অনেক্ষণ কেঁদেছেন। পরিবারকে তার সাথে সহজ আচরণ করতে দেখে তুবার হারিয়ে যাওয়া সাহস ফিরে এলো। তুবার মন বলছে, এবার যা হবে ভালোই হবে।
মাঝরাতে আচমকা তুবার ঘুম ভেঙে গেলো। অদৃশ্য কোনো অস্বস্তিতে হাসফাস করে উঠলো মেয়েটা। কেমন যেনো গা গোলাচ্ছে। বুকের মধ্যে অদ্ভুত চাপ অনুভব করছে। আচমকা এমন অসহ্য অনুভুতির কারণ তুবা বুঝতে পারলো না। ইচ্ছে করছে কারণ ছাড়াই হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে কৌশিকের নাম্বারে ডায়াল করলো তুবা। কৌশিক অফিসের কাজ শেষ করে মাত্রই ঘুমিয়েছিল। আচমকা মোবাইল বেজে ওঠায় চোখ বন্ধ রেখেই হাতড়ে ফোনটা কানে ধরলো। পরপরই তুবার কন্ঠ স্বর শুনে ফট করে চোখ মেলে তাকালো। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলো রাত দুটোর কাছাকাছি বাজে। কৌশিক চিন্তিত স্বরে বললো,
"কি হয়েছে জান? তুই এতো রাতে জেগে কেনো?"
"আমার ভালো লাগছে না কৌশিক ভাই। একটু এই ঘরে আসবেন?"
কাঁদো কাঁদো কন্ঠে জবাব দিলো তুবা। কৌশিক আর এক মুহুর্তও সময় ব্যায় করলো না। সঙ্গে সঙ্গে ছুটলো তুবার ঘরে। কৌশিক যখন তুবার ঘরে পৌঁছালো তখন তুবা পুরো ঘর জুড়ে পায়চারি করছিল। কৌশিককে দেখে ঠোঁট ভেঙে দুই হাত ছড়িয়ে দিলো তুবা। কৌশিক দড়জা লক করে ছুটে গেলো তুবার কাছে। এক হাতে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে অন্য হাতে তুবার কপাল গলা চেক করলো। কন্ঠে চিন্তার ছাপ,
"কি হয়েছে জান? এতো রাতে ঘুমাসনি কেনো? শরীর খারাপ লাগছে?"
তুবা ঘুরে কৌশিককে দুই হাতে জড়িয়ে ধরলো। কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,
"ভালো লাগছে না। আমার ঘুম আসছে না।"
কৌশিক কোনো কথা বাড়ালো না। তুবাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় গেলো। খাটের সাথে আধশোয়া হয়ে বসে তুবাকে নিজের ওপর নিয়ে নিলো। তুবার মাথাটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
"আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি তুই ঘুমানোর চেষ্টা কর।"
তুবা কোনো প্রতিউত্তর করলো না। চুপটি করে কৌশিকের বুকে পড়ে রইলো। তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে কৌশিকের অর্ধ উন্মুক্ত বুকে আঁকিবুঁকি করতে লাগলো। সেকেন্ডের ব্যবধানে ঠোঁট ছোঁয়াল। ফুলে থাকা এ্যাডম এ্যাপল নিয়ে খেলা করতে লাগলো। কৌশিক নিচু কন্ঠে ধমকে উঠলো,
"দুষ্টুমি নয় তুবা।"
তুবা শুনলো না। কৌশিকের টিশার্টের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দিলো। পুরো বুকে হাত চালাতে চালাতে বলল,
"একটু আদর করবেন?"
"এখনই?"
"হুম, এখনই। আমার আদর চাই।"
"তোর কষ্ট হবে না?"
"আমি অসুস্থ নই কৌশিক ভাই। বাচ্চা কোনো অসুখ নয়।"
কৌশিক ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো। তুবার কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"অল্প একটু আদর করবো ঠিক আছে? বেশি নয় কিন্তু।"
তুবা চোখ বন্ধ করে নিলো। এক টানে পড়নের টিশার্ট খুলে ফেললো কৌশিক। তুবাকে নিচে ফেলে দুই হাতে ভর দিয়ে ঝুঁকল। তুবার ওষ্ঠপুট নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিলো। পরম আদরের সহিত প্রেম ঢেলে দিলো। কৌশিকের শক্ত হাতের বিচরণ চললো তুবার নরম দেহজুড়ে। এক একটা ছোঁয়ায় ছিলো কতশত আকুতি, ভালোবাসা।
কৌশিকের পুরো ওষ্ঠ তুবার গলদেশ, বক্ষভাজ দিয়ে উদরে নামলো। গভীর ছোঁয়া বসিয়ে দিলো উদর জুড়ে। অদ্ভুত শিহরণে কেঁপে উঠলো তুবা। কৌশিকের মাথার চুল খামচে ধরলো। কৌশিক সময় নিয়ে উদর থেকে উঠলো। পুরো দেহের ভর ছেড়ে দিলো তুবার ওপর। দুটো ন*গ্ন দেহ মিশে গেলো একে অপরের সাথে। চরম মুহুর্তে কৌশিক তুবার কানের কাছে মুখ নামিয়ে আনলো। গভীর রাতে তার কন্ঠস্বর আরও গভীর শোনালো,
"তোর মাঝে এক অদৃশ্য আরাম আছে জান। তোর গভীরে প্রবেশ করলে আমি ভিষণ আরাম পাই। মনে হয় জান্নাতের এক টুকরো শান্তি আমার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। এত শান্তি কেনো দিস?"
তুবা কোনো জবাব দিলো না। শুধু কৌশিকের পাগল করা এলোমেলো ছোঁয়া অনুভব করলো। চরম সুখে মুচড়ে উঠলো শরীর। কৌশিক খুব অল্প সময় নিলো। এরপরই সরে গেলো। ফিসফিস করে বলল,
"এর বেশি আর নয়। এখন থেকে আদরও মেপে দেবো।"
তুবা মুখ লুকালো কৌশিকের ন*গ্ন বুকে। কৌশিক আবারও জিজ্ঞেস করলো,
"এখন ভালো লাগছে?"
তুবা মুখে কোনো জবাব দিলো না। কৌশিকের বুকের মাঝে মুখ লুকিয়ে শুধু উপরনিচ মাথা নাড়লো। কৌশিক হাসলো। ঠোঁট প্রসস্ত করে মন ভরে হাসলো। দুই হাতে জাপ্টে ধরলো তুবাকে। এই মেয়েটা বুকে থাকলে মনে হয় পুরো পৃথিবী কৌশিকের আয়ত্তে।
-
-
সকালে খাওয়ার টেবিলে উপস্থিত হয়েছে পরিবারের সবাই। তুবা আসতে না চাইলেও রিয়া জোর করে টেনে এনেছে। সেই যে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তুবা মাথা নিচু করেছে, এরপর আর মাথা তুলে তাকায়নি। বাপ চাচাদের চোখের দিকে তাকানোর সাহস পাচ্ছে না মেয়েটা। তুবা চেয়ার টেনে বসার মিনিটের ব্যবধানে কেউ একজন ওর পাশের চেয়ারে বসলো। তুবা আঁড়চোখে একবার তাকিয়ে দেখলো। কালো শার্ট এবং কালো প্যান্ট পরিহিত সুদর্শন কৌশিককে দেখে হার্টবিট থমকে গেলো তুবার। কৌশিকের পা থেকে মাথা পর্যন্ত আরও একবার নজর বুলালো। ফর্সা শরীরে কালো শার্ট অত্যাধিক চোখে লাগছে। বুকের কাছের দুটো বোতাম খোলা থাকায় লোমশ বুকের কিছু অংশ ফুটে উঠেছে। কনুই পর্যন্ত হাতা গুটিয়ে রাখায় লোমযুক্ত ফর্সা হাত উন্মুক্ত। তাতে কালো রঙের চকচকে ঘড়ি আরও বেশি নজর কাড়ছে। তুবার শ্বাস যেনো থমকে গেলো। এই কয়েক মুহুর্তেই আরও একদফা প্রেমে পড়লো কৌশিকের। বেহায়ার মতো আঁড়চোখে দেখতে দেখতে খিচুড়ি মুখে নিলো।
কৌশিক তখন নিজের খাওয়ায় মগ্ন। আশেপাশে তাকাচ্ছে না। চামচ দিয়ে খিচুড়ি মুখে নিতে নিতে জামাল সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বলল,
"তোমার আচার অনুষ্ঠান একটু তাড়াতাড়ি সেরে ফেললে হয় না বাবা?"
আচমকা ছেলের কথা শুনে জামাল সাহেব খাওয়া থামিয়ে দিলেন। ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলেন
"কেনো?"
কৌশিকের ভাবলেশহীন উত্তর,
"তোমাদের মেয়ের রাতে একা থাকতে সমস্যা হচ্ছে। মেবি ওর আমাকে কাছে প্রয়োজন।"
আচমকা কৌশিকের এমন লাগামছাড়া কথা শুনে খাবার গলায় আটকে গেলো তুবার। ওই অবস্থাতেই জোরে শোরে কেশে উঠলো। বাড়ির সবাই ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে তুবার মাথায় পিঠে হাত বুলাতো লাগলো। সবাইকে উপেক্ষা করে কৌশিক পানির গ্লাস নিয়ে তুবার মুখের সামনে ধরলো। এক ঢোক পানি খেয়ে কাশিটার দাপট কিছুটা কমে এলো তুবার। গলা পরিস্কার করতে আরও এক ঢোক পানি মুখে নিলো। এখনও গিলতে পারেনি। ঠিক সেই মুহুর্তে কৌশিক আবারও বলে উঠলো,
"দেখেছো তো! তোমাদের মেয়ের আমাকে ঠিক কতটা প্রয়োজন। আমি ছাড়া ওকে কেউ সামলাতে পারে না।"
মুখের পানি টুকু আর গিলতে পারলো না তুবা। নাক মুখ দিয়ে উঠে সোজা মাথায় চলে গেলো। এমন ঠোঁট কাটা, নির্লজ্জ, লাগামহীন মানুষ ওর কপালেই লেখা ছিলো?
চলবে?

0 Comments