লাগলো, আজ রুদ্র মেতে উঠেছে নেশায়, নেশা গ্রস্তের মতো স্নেহাকে নিজের করছে। ভালোবাসার মানুষটার আর্তনাথ যেন আজ আর তার কান অবদি পৌছাচ্ছে না,


 প্রায় তিন ঘন্টা স্নেহাকে ধ**র্ষ**ন করলো রুদ্র,  হাজার কষ্ট করে নিজেকে বাচাতে সক্ষম হয়নি স্নেহা, একটা ছেলের শক্তির সাথে কখনো পেরে উঠবেনা একটা মেয়ে,


একটা সময় খুব বেশি ভালোবাসতো স্নেহাকে রুদ্র কিন্তু স্নেহা কোনোদিন বোঝেনি রুদ্রের ভালোবাসা,,,

- রুদ্রের ফোনে স্নেহার বাবার ফোন আসতেই,,

📱 

রুদ্র ফোন ধরলো,

- কুকুরের বাচ্চা আমার মেয়ে কোথায়?  তুই কি করেছিস আমার মেয়ের সাথে,

- শশুর মশাই আপনি রেগে যাচ্ছেন কেনো? আমি আপনার একমাত্র জামাই হবো, আর নিজের বউয়ের সাথে স্বামীরা কি করে তা আপনাকে কিভাবে বলি( ডেভিল হাসি দিয়ে বললো রুদ্র) 

- তোকে আমি দেখে নেবো রাসকেল,

- ওকে আমি খুব তাড়াতাড়ি আপনার মেয়েকে নিয়ে আপনার সামনে হাজির হবো শশুর মশাই আপনি চিন্তা করবেন না, যতোটা কষ্ট আপনি আর আপনার মেয়ে আমাকে দিয়েছেন তার থেকেও হাজারো বেশি কষ্ট আমি ফিরিয়ে দিবো আপনাদের।  ( বলেই ফোন কেটে দিলো রুদ্র)

স্নেহা বিছানায় বসে কেঁদে যাচ্ছে,  রুদ্র স্নেহার কাছে যেয়ে বসলো,

- একদম কাঁদবে না জান, তুমি জানো আমি তোমাকে কতোটা ভালোবাসি। আর আজ যা করেছি তা করতে তোমরা আমাকে বাদ্ধ্য করেছো।

- তুই খুব খারাপ, বাবা ঠিক বলে তোর মতো মানুষ জানোয়ারের থেকেও খারাপ, আমি তোকে ছাড়বো না। 

- তাই নাকি জান? আমিতো চাই যেন তুমি আমাকে না ছাড়ো।  তবে কি জানো আগে তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসতাম তবে তোমার দেয়া প্রতিটা কষ্ট আমাকে পাগল বানিয়ে ছেড়েছে। তোমাকে ভালোবাসার অপরাধে আমি আমার জীবনের সব কিছু হারিয়েছি।  হারিয়েছি আমার বাবাকে। জানো তোমার প্রতি আমার যেমন আছে ভালোবাসা তেমনি আছে ঘৃনা।

একদিন এই তুমি আমাকে ধ*র্ষ*নকারী প্রমান করেছিলে কিন্তু আজ দেখো!!

তুমি নিজেই একটা ধ*র্ষিতা। কার কাল পরশু সবাই জানবে যে তুমি একজন ধ*র্ষিতা। আফজাল খানের একমাত্র আদরের মেয়ে ধর্ষিতা এটা যখন সবাই জানবে তখন এই তোমাকে আর তোমার বাবাকে লোকে ছি, ছি করবে। টিভি, নিউজ সব যায়গায় তোমার ধ*র্ষন হবার কাহিনি প্রচার হবে, ( রাগে লাল হয়ে রুদ্র কথাগুলো বললো স্নেহাকে)


রুদ্রের কথা শুনে স্নেহার কান্নারবেগ যেন শতোগুন বেড়ে গেলো, 

- চুপ করুন,আমি আর শুনতে পারছি না। আপনি আমাকে মেরে ফেলুন। তবুও এসব আমার সাথে করবেন না, আমার পাপা  মরে যাবে তার সম্মানহানি হলে,

- হাহাহা সেইটাই তো আমার চাওয়া, তোমরা সেদিন আমার অসহায় পরিবার যে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিলে, আমার ছোট্ট পরিবারকে বাড়িছাড়া করেছিলে। সেদিন আমাদের হাজারো কাকুতিমিনতি তোমাদের মন গলাতে পারেনি।

- আমি সত্যি কিছু জানতাম না, সত্যি বলছি আমি কিছু জানতাম না।

- আর কতো মিথ্যা বলবি তোরা?( স্নেহার চুলের মুঠি ধরে বললো রুদ্র) আর কতো নাটক করবি তুই? আমার অপরাধ ছিলো তোকে ভালোবাসা তাইনা? তবে শুনে রাখ এই ভালোবাসার জন্য যে কষ্ট যে যন্ত্রণা আমি পেয়েছি তা শুধে আসলে ফেরত দিবো তোকে,আর তোদের।

- জানোয়ার একটা আমার শরীরটাই চেয়েছিলি তুই? কাপুরুষ  তুই তোর মতো মানুষের সাথে থাকার চেয়ে মৃত্যু আমার কাছে অনেক শুখের।

- একদম চুপ, আমার সাথেই থাকতে হবে তোর বাকিটা জীবন। এই জানোয়ারকেই  তোর স্বামী হিসেবে গ্রহন করতে হবে,

- আমি সুইসাইড করবো নিজেকে শেষ করে দিবো তবুও তাকে স্বামী হিসেবে মানবো না,

রুদ্রের চোখ লাল হয়ে আছে, রুদ্র স্নেহার চুলের মুঠি ধরেই তার ঠোট দিয়ে স্নেহার ঠোট দখল করে নিলো আর পাগলের মতো কিস করতে লাগলো,

আজ রুদ্র মেতে উঠেছে নেশায়, নেশা গ্রস্তের মতো স্নেহাকে নিজের করছে।

ভালোবাসার মানুষটার আর্তনাথ যেন আজ আর তার কান অবদি পৌছাচ্ছে না,

প্রায় ১০ মিনিট পর স্নেহাকে ছাড়লো রুদ্র,

- (শার্ট পড়তে,পড়তে বললো) এমন কথা আর কখনো বলবেনা জান,  তুমি মনে রেখো নিজের সাথে যদি তুমি খারাপ কিছু করার চেষ্টা করো। তবে তার ফল খুব ভয়ানক হবে, আমি আগের সে রুদ্র আর নেই।  যে তোমার ভালোবাসার পাগল থাকবে, অন্ধের মতো তোমাকে ভালোবাসবে।

আজো তোমাকে ভালোবাসি তবে অন্ধের মতো না। 

- স্নেহা কান্না করে যাচ্ছে,  চাদরটা শরীরের সাথে আঁকড়ে ধরছে শক্ত করে,  আজ যেন তার কান্না বাধ মানতে চাইছে না। কিভাবে নিজেকে সামলাবে সে আজ সে হারিয়েছে তার সম্মান যা একটা মেয়ের কাছে সবচেয়ে বেশি দামী।

প্রায় ৩০ মিনিট পর রুদ্র খাবার হাতে রুমে ঢুকলো,

খাবার নিয়ে স্নেহার কাছে যেয়ে বসতেই স্নেহা নিজেকে আরো শক্ত করে নিজেকে গুটিয়ে নিলো,

- ভয় পেয়োনা প্লিজ আমি এখন আর কিছু করবো না, তোমাকে সেই কখন তুলে এনেছি সারাদিন কিছু খাওনি তারপরে তোমার ওপরে অনেক ধকল গিয়েছে,  তাই চুপ চাপ খেয়ে নাও।

- (স্নেহা কাপা,কাপা ঠোটে বললো,) আমাকে বাড়ি দিয়ে আসুন আসুন আমি এখানে থাকবো না, আমার  খুব ব্যাথা করছে, আমি বাড়ি যাবো।

-.হুম খাবারটা খেয়ে নাও তোমাকে আজই বাড়ি দিয়ে আসবো,

- রুদ্রের কথা শুনে স্নেহা।একবার রুদ্রের দিকে করুণ ভাবে তাকালো তারপর,  তারপর খাবারটা নিয়ে খাওয়া শুরু করলো। কারন স্নেহা ভালো করেই জানে এখন রুদ্রের কথা না শুনলে হয়তো তার আর বাড়ি যাওয়া হবে না। 

খাবারটা মুখে দিতে, স্নেহা,

- আহহ আমার ঠোট জ্বলছে, ঠোঁটে হাত দিয়ে,

- রুদ্র স্নেহার ঠোঁটের থেকে হাত সরিয়েই দেখলো স্নেহার ঠোট অনেকটা লাল হয়ে ফুলে গেছে, রাগের মাথায় রুদ্র স্নেহার এই অবস্থা করেছে নিজেরি ভেবে বুকটা ফেটে যাচ্ছে,,,

- কি হয়েছে? খুব কষ্ট হচ্ছে, স্নেহাকে ধরে রুদ্র বলে উঠলো,

- আপনি কি মানুষ?  নিজেই আমাকে এতো কষ্ট দিয়ে আমার এতো বড় ক্ষতি করে এখন জানতে চাইছেন আমি ঠিক আছি কিনা? আপনি খুব খারাপ। আপনি কখনো ভালো থাকতে পারবেন না কখনো না।

- অভিশাপ দিচ্ছো আমার ভালো থাকার দরকার নেই, তুমি কাছে থাকলে আমি এমনিতেই ভালো থাকবো বলেই,

স্নেহার দিকে একটা ড্রেস ছুড়ে দিয়ে রুদ্র  বললো,

- ড্রেসটা পরে নাও, তোমাকে বাড়ি দিয়ে আসছি, তবে ভেবোনা সারাজীবনের জন্য দিয়ে আসছি এই আমার কাছেই আবার ফিরে আসতে হবে তোমাকে,

কথাগুলো বলেই রুদ্র রুম থেকে বের হয়ে গেলো,

চলবে,,,


The Villain Husband

লেখিকা : নিশাথ তানভীর নিলাশা

পার্ট      : ১



Post a Comment

0 Comments