আমার মোবাইলে আজ রিয়াদ একটা ফেসবুক একাউন্ট খুলে দিল।আমি শুধু ইমো আর ইউটিউবেই সীমাবদ্ধ। আমার স্বামীর মোবাইল দিয়ে ফেসবুক চালিয়েছি বহুবার তবে আমর নিজস্ব কোনো আইডি ছিল না। আজ একটা নতুন ফোন কিনে দিলো আমার স্বামী ইমতিয়াজ। আর তারপর রিয়াদকে বলে আমার ফোনটা সেটআপ করে দিতে আসলে ওর তাড়া ছিল দেশের বাড়ি যাওয়ার। আমার শশুরবাড়ি রাজশাহী আর ওর ব্যবসার জন্য আমরা ঢাকায় থাকি। বিয়ের ১৩ বছর পর আমি শশুর বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় আসি।কিছুটা জোরপূর্বক ই আসি কারন আমার শাশুড়ি মা চাইতেন না আমি ঢাকায় থাকি। আসলে সংসারের কাজ তাকেই করতে হবে আমি চলে এলে উনি একজন স্কুল শিক্ষিকা। কিন্তু আমি এবার জেদ ধরলাম ইমতিয়াজের সাথেই থাকব ও প্রথমে না করলেও পরে রাজি হয়।আমার একটি ছেলে ও মেয়ে আছে।আমরা ঝগড়া-ঝাটি, মারামারি, মান-অভিমান নিয়ে বেশ আছি। ও আমাকে খুব ভালোবাসে, আমি রাগ করে থাকতেই পারিনা ওর ওপর কারন সে আমার সাথে ঝগরা করে হলেও রাগ ভাঙাতো।
যাইহোক রিয়াদ আর মিযান আমাদের সাথেই থাকে ওরা আসলে কর্মচারী কিন্তু আমি আর আমার স্বামী ওদেরকে ভাইয়ের মতো ভালোবাসি। তো রিয়াদ আইডি খুলে দিল 'ইয়াসমিন ইশা' নামে। কোনো ছবি দেওয়া ছিল না নতুন আইডি দিয়ে ইমতিয়াজ কে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিলাম ও সাথে সাথে এক্সেপ্ট করল। তবে বুঝতে পারেনি এটা আমার আমি কারন আমি বড্ড সাধাসিধে। পরেরদিন আমি ওকে কল দিলাম ও কবে আসবে জানার জন্য কিন্তু ফোন বন্ধ পেলাম। আমার শাশুড়ি মাকে কল দিলাম তিনি বললেন আজ দুপুরে বের হয়েছে এখন রাত ৮ টা বাজে এখনো বাসায় আসেনি। বলেছে আসতে দেরি হবে কাজ আছে।
আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম ওখানে আবার কিসের কাজ। হঠ্যাৎ ফেসবুকিং করতে করতে দেখি ইমতিয়াজ একটা ছবি পোষ্ট করেছে ১ঘন্টা আগে ও বাসের মধ্যে।ছবিটায় দেখা যাচ্ছে কোনো মেয়ে হয়তো ওর পাসের সিটে শুধু হাত দেখা যাচ্ছে। আমি কমেন্ট পড়া শুরু করলাম, দেখলাম একজন লিখেছে কোথায় যাচ্ছেন হানিমুনে? - ও রিপ্লাই দিল কক্সবাজার।।
আমার এতে তেমন খারাপ লাগল না মনে কোনো সন্দেহ ও হলো না কিন্তু একবার আমাকে বলে তো যেতে পারতো নাকি!মনটা কেমন যেন খচখচ করছে।
Spin and Win
হঠ্যাৎ ও ফোন দিল আমি রিসিভ করতেই বলল ইশু তুমি কি ফোন দিছিলা?
- কই না তো।
- আরে রাগ কইরো না। একটা কাজের অর্ডার পাইছি তো দুইদিন দেরি হবে। তুমি রিয়াদকে বলো ও যাতে ওই দিকটা এ দুইদিন সামলায়।।
আমাকে কেন মিথ্যা বলল ও। আমি কিছু না বলে চুপচাপ রইলাম ভাবলাম তাহলে কি এর আগেও আমাকে মিথ্যা বলা হয়েছে। আমার মেয়ে বুসরা বারবার ওর বাবার কথ্যা জিগ্যেস করছে বলছে পাপা কখন আসবে আম্মু। আমি কোনোমতে ওকে শান্ত করে ঘুম পারালাম। আমার চোখে ঘুম নেই। সকালে সবার জন্য রান্না চাপালাম। ওরা খেয়ে কাজে গেলো আর আমার ছেলে ইয়াশ স্কুলে গেলো।
Spin and Win
এবার আমি কি যেন মনে করে ফেসবুকে ঢুকলাম আর দেখি ইমতিয়াজ ছবি আপলোড দিয়েছে। যা দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম, মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। ও একটা মেয়ের সাথে ছবি ছাড়ছে চেহারা না দেখা গেলেও মেয়েটাকে আমি চিনি। ও তো ইমতিয়াজের পাতানো বোন মাইশা। তার মানে ও............................
সংসার
........ সমাপ্ত।।।।


0 Comments