স্রোতের Sumi Akhtar

স্রোতের

Sumi Akhtar 
 শাড়ি পরে শুয়ে আছি, কিন্তুু খুলতে ও পারছি না,  যদি এখন শাড়ি খুলে ফেলি তাইলে সন্দেহ করবে, তাই চুপচাপ চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি, আর মনে মনে ওনার প্রতি ঘৃ'ণা গুলা প্রকাশ করছি,

ভাবছি শাড়ি পরাতে হয়তো ওনি কাছে আসবে কিন্তুু না সে একবার জন্য ও কাছে আসলো না, আসবে কেমনে অন্য জায়গায় দূ"র্বল হয়ে এসেছে,  

এখন আর  সংসার নিয়ে ভাবছি না শুধু ভাবছি কি ভাবে মুক্তি পাবো এমন মানুষের হাত থেকে, 

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ওনি নাস্তা করে বাজারে চলে গেছে,  আমি শাড়ি গুছিয়ে রাখতে গিয়ে দেখি আমার বিয়েতে যে গহনা দিছে একটা ও নাই,  
আমার শাশুড়ী কে বললাম ঘটনা টা, ওনি বললো তর জামাই বাসায় আসলে জিজ্ঞেস করিস, 
ওনি যখন দুপুরে বাসায় এসেছে এখন জিজ্ঞেস করলাম আমার গহনা কই, ওনি বললো আমি রেখে দিছি যখন লাগবে বলাবা আমি এনে দিবো, তখন আর কিছু বলি নাই, কারণ কিছু বললে ঝ'গড়াঝা'টি বেধে যাবে,

ওনি দুপুরের খাবার খেয়ে  আজকে ভালো জামা কাপড় পরে বের হয়েছে,  মনে মনে সন্দেহ হয়েছিল, কিন্তু এটা ভাবিনি যে আজকেই আমার এই বাড়িতে শেষ দিন,,

সারাদিন কাজকর্ম করে রাতে ফ্রী হয়ে ফোন হাতে নিলাম, 
আব্বুর সাথে কথা বললাম,

আব্বুর রুমমেট সাথে ও কথা হয়েছে তবে মেসেজে, ওনি আমার ফেসবুক আইডি চায়, আমি বললাম ফেসবুক চালাইনা, 

মিথ্যা টা বলতে হলো কারণ আমার ফেসবুক অপরিচিত কাউকে এড্ড করি না,

 আজকে ঘুম ও আসতেছে না, ১০টার বেশি বেজে গেছে ওনি ও আসে না,  আসবে হয়তো আরো পরে ন*ষ্ট ই*ঞ্জিন নিয়ে মনে হয় ন*ষ্টা মহিলার কাছে গেছে, 
কিছুখন ফোন টিপেই ঘুমিয়ে গেছি, রাত ৩ টার দিকে ঘুম থেকে উঠে দেখি ওনি এখন ও আসেনি,
নাম্বারে ফোন দিলাম নাম্বার বন্ধ, 

কিছুখন পর ওই মহিলা কে ও ফোন দিলাম ওনার নাম্বার ও বন্ধ, 

সকাল হয়ে গেছে, আমার শাশুড়ী কে বললাম আপনার ছেলে রাতে বাড়ি  আসেনি, ওনি বললো ফোন দাও কই গেছে, আমি বললাম ফোন দিছি নাম্বার বন্ধ, 

এই দিকে ওই ন*ষ্ট মহিলার  ও ফোন বন্ধ,  

ভাবিকে ফোন দিলাম, ভাবি বললো ওই মহিলা বাসায় নাই, 
বাহিরে লাইট জ্বলছে বন্ধ করার মানুষ নাই বাড়িতে, আমি ভাবি কে বললাম একটু খেয়াল রেখো আমি আসতেছি,

আমি শাশুড়ী কে বললাম আম্মা আমার একটু বাড়িতে যেতে হবে,ওনি রাজিনা আমি একপ্রকার জোর করেই রেডি হয়ে সব কিছু নিয়ে চলে আসলাম বাসায়, এমন ভাবে আসলাম জামাই বাড়িতে যাবার ইচ্ছে নেই আর,

বাসায় এসে রুমের দরজ খুলে চারপাশ ভালো করে দেখতে লাগলাম, অনেক কিছুই নাই ঘরে, সব কিছু নিয়ে চলে গেছে,

বাহিরে গিয়ে আমাদের একট ষাঁ"ড় গ"রু ছিলো এটা খুজতে লাগলাম সেটা ও নাই, আসেপাশের মানুষ বললো গরুটা নাকি কাল ৭৮ হাজার টাকা বিক্রি করে দিছে,
গরুটা আমি নিজেও পালছি এতো কষ্টের জিনিস কেমনে বিক্রি করলো ওই মহিলা,,

বাসার সব কিছু, আমার গহনা এসব নিয়ে তাইলে ওরা ২ জন পালিয়ে গেছে, এলাকা জুড়ে খবর হয়ে গেছে জামাই শাশুড়ী কে নিয়ে পালিয়ে গেছে ,  

ল"জ্জায় বাড়ির বাহিরে যাইনা, শাশুড়ী একবার ফোন দিছে আমি বলে দিছি আপনার পোলার বউ এখন আমি না আমার সত মা,, ফোন দিলে ওনাকে দিন, আর কোন দিন আমি আপানার বাড়ি যাবো না সময় মতো ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দিবো,

সারা দিন এসব ঝামেলায় ল"জ্জায় বাহিরে ও যাইনি,

রাত ১১ টার দিকে হিমেল কল দিছে ইমুতে,ওনার কল রিসিভ করিনি, ৭ বার কল দিছে রিসিভ করি নাই তাই ওনি মেসেজ দিছে আপনার আব্বু  সু*ই সা/ইড করতে গেছিলো, রুমে এক জন দেখে ফেলায় এইবার মতো বে*চে গেছে,  

মেসেজ টা দেখে কান্না শুরু করলাম সাথে সাথে কল দিলাম আমি, হিমেল বলতাছে কান্না করবেন না, আপনার আব্বু যদি আপনার কান্না শুনে তাইলে ওনার সমস্যা হবে,,

আমি হিমেল কে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে, কমনে কি হলো
হিমেল বললো আমরা কিছুই জানিনা,  কাজে ছিলাম আরেক জন ফোন দিলো বললো ওনি ফে'নের সা"থে গামছা পে"ছিয়ে,,,

তার পর আমারা সাথে সাথে এসে ওনাকে হসপিটাল নিলাম, 
একটু সুস্থ হবার পর বাসায় আনলাম, এক দিন হসপিটাল রাখলে ভালো হতো কিন্তু অনেক টাকার বেপার তাই ডক্টর বললো বাসায় নিয়ে যাওয়া যাবে,তাই এখন বাসায় আনলাম,

ওনি কেন এমন করলো এখন ও জানতে পারলাম না,

আমি বললাম হিমেল সাহেব আপনার সাথে আমার অনেক কথা আছে যদি ফ্রী হয়ে নিরিবিলি হয়ে আমাকে ফোন দিতেন,
হিমেল বললো ঠিক আছে এক ঘনটা পর ফোন দিচ্ছি, এটা বলে ফোন কেটে দিছে,

আমার কান্না দেখে আশেপাশে মানুষ চলে এসেছে, সবাই কে জিজ্ঞেস করলাম কে আমার আব্বু কে খবর দিছে,এখন ওনি ম*রার চেষ্টা করলে,  ভাবি বলতাছে তোমার ভাই বলছে খবরটা আজকে হওক বা কাল একদিন তো জানবে,কিন্তু কাকা এমন টা কেন করলো,  

কান্না করতে করতে আমার চোখ ২ ফুলে গেছে,  আজকে রাতে ভাবি আমার সাথে থাকবে,
সবাই সবার বাড়ি চলে গেছে, ভাবি আমাকে শান্তনা দিচ্ছে,, যে এমন জামাই না থাকলে কিছু যায়আসেনা, আমি বললাম ভাবি জামাই দিয়ে কি করবো আমি আমার আব্বুর জন্য কান্না করি,

একটু পর হিমেল কল দিছে, আমি ভাবি কে বললাম ভাবি তুমি ঘুমাও আমি কথা বলে আসি,

রান্না ঘরে বসে ওনার সাথে কথা বলছি, আর কান্না করছি ওনাকে সব টা বললাম ওনি নিরব হয়ে সব কথা শুনলো, শুধু একটা কথাই বললো, অনিশা তোমার কান্না গুলো আমার বু"কে তী*রের মতো লা"গে দয়া করে কান্না থামাও,
 
কান্না থামাতে চাইলে ও পারিনা,শুধু বলালম আপনারা আমার আব্বু কে দেখে রাখবেন,,

২ ঘন্টার ও বেশি ওনার সাথে কথা বলে ভাবির পাশে গিয়ে শুযে পরলাম,

পরের দিন থেকে আবার নিজের মতো করে বাড়ি ঘর ঠিক করলাম, এখন ভাবছি বাসায় থাকবোনা, মানুষে নানান রকমের কথা বলবে এসব খুঁ*চা মা*রা কথা শুনতে ভালো লাগবে না, কিন্তু কিছু করতে ও তো সময় লাগবে,,

এই ভাবে কেটে গেলো  দের মাস, 

হিমেলের সাথে ভালো একটা বন্ধুর মতো সম্পর্ক হলো
এখন ওনার সাথেই সব থেকে বেশি কথা হয় আমাকে সাপট করে শান্তনা দেয়, সময় দেয় যখন ফ্রী থাকে তখনই কল দেয়, 
তবে আগের মতই পা*গলামি করে শাড়ি পরে ভিডিও কল করতে,  তবে আমি না করে দিছি যে এখন জামাই নাই শাড়ি পরলে সবাই অন্য চোখে দেখবে,

কিছুদিন আগে আমার শাশুড়ী এসেছে, আমাকে বললো ওনার ছেলে নাকি এখন অন্য যায়গায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকে,
আমাকে বললো তুমি চলো আমাদের বাড়িতে,তুমি আমার ছেলের বউ, ওই মহিলা কে কখনোই বাড়িতে আসতে দিবোনা তুমি চলে আসো, আমি না করে দিছি,আর এটাও বলছি কিছুদিনের মধ্যে ডিভোর্স দিবো, আপনার ছেলের কাছে অলরেডি উকিল নোটিশ গেছে, আপনার ছেলে যে দিন ডেট দিবে সেই দিন কোর্ট গিয়ে ডিভোর্স দিয়ে চলে আসবো

শাশুড়ী চলে গেছে,, 

ওনি ও ওনার ছেলের ক"র্মকা""ণ্ডের  জন্য ক"ষ্ট পেয়েছে, 

এখন আব্বুও আগের মতো কাজকর্ম করে মাথায় কোন টেনশন নিতে না করছি,
হিমেল  ও ওনার খুজখবর রাখে,

আজকে রাতে নাকি হিমেল কি বলবে বলছে, সেই অপেক্ষায় রইলাম,

রাত ১০ টার দিকে ফোন দিছে,এখন আর ভাবি আমার সাথে ঘুমায় না, তাই সারারাত কথা বললেও সমস্যা নাই,, তবে ওনি এখন ইমুতে না মেসেঞ্জারে কল দেয়,এতো দিন তো ফেসবুকে এড্ড করিনি কিছুদিন হলো এড্ড করছি,,

এখন আমাকে কলে রেখে রাতের খাবার খাচ্ছে,  আমি অপেক্ষা করছি ওনি আজকে কি এমন কথা বলবে সেটা শুনার জন্য, 

ওনার খাবার শেষ করে আসলো, আমাকে জিজ্ঞেস করছে  
একটা রিকুয়েষ্ট করবো রাখবা আমি বলালম কি রিকুয়েষ্ট বলেন, ওনি বললো আমি ছুটি তে আসবো ১৫ দিনের জন্য কিন্তু বাসায় যাবো না,আমি বললাম তাইলে কেন আসবেন, ওনি বলে তোমার সাথে দেখা করবো,আমি বললাম শুধু একবার দেখা করলে তো ১৫ দিন লাগে না তাইলে এতো দিন কই থাকবেন, সে উত্তর দিলো ঢাকাই হোটেল ভাড়া করে ১৫ দিন থাকবো,  একটু কাজ আছে, 

আমি ওনার কথার কোন মানে বুজলাম না, যেহেতু বললো কাজ আছে তাই আমি বললাম ঠিক আছে আসেন,,

রাতে কথা বলে ঘুমিয়ে গেলাম, সকালে দেড়িতে উঠলাম ঘুম থেকে,  নেট অন করে দেখি হিমেল মেসেজ দিছে যে ওনি টিকেট কাটার জন্য যাচ্ছে, আমি বললাম এতো তারাতারি,,

ওনি বললো হা ছুটি কাল থেকে শুরু, তোমার আব্বু কে বলবে না আমি বাসায় যাবোনা,  কারণ সবাই যানে আমি বাসায় যাবো শুধু  তুমি যানো যে আমি ঢাকায় থাকবো,

আমি বলালম ঠিক আছে, 

ওনি টিকেট কেটে আনলো, ১৪ দিনের ছুটি, 
আর মাএ ২ দিন বাকি আছে ওনি আসবে দেশে,,

আমার জন্য কি আনবে জিজ্ঞেস করলো আমি বললাম কিছুই না আপনি ভালোভাবে আসেন এটাই চাই, 

এখন কি বলে বাসা থেকে বের হবো সেটা ভাবছি,

ভাবি কে বললাম ভাবি আমি চাকরি জন্য এপ্লাই করছিলাম ২ দিন পর ঢাকা যাবো এক দিন থাকবো পরের দিন চলে আসবো,,

ভাবি বললো তর আব্বু কে বলে যা,আমি বলালম আব্বু কে বললে আব্বু দিবে না,সব কথা আব্বু কে বলার দরকার নাই, ভাবি বললো ঠিক আছে যা করস সাবধানে করিস,,

চলবে.........

স্রোতের

Post a Comment

0 Comments