আমি_তরঙ্গিণী ✍️ Sumi Akhtar পর্ব ২: "নিঃস্ব অপেক্ষা"


 

আমি_তরঙ্গিণী
✍️ Sumi Akhtar
পর্ব ২: "নিঃস্ব অপেক্ষা"

রেজওয়ানের ঠান্ডা অথচ তীক্ষ্ণ কণ্ঠে উচ্চারিত সেই শব্দগুলো যেন আমার হৃদয়ের শিরা উপশিরা কেটে দিয়ে গেল—
“তোমায় আমি কখনোই নিজের ওয়াইফ হিসেবে মানিনি, মানবও না।”

আমি কাঁপা গলায় বললাম,
“আমিও চাই না আপনার মতো আত্মমর্যাদা বর্জিত একজন পুরুষের স্ত্রী হয়ে থাকতে। ডিভোর্স দিয়ে দিন। এ জীবন থেকে তো অনেক আগেই বেরিয়ে গেছেন, এবার আইনি কাগজেও বেরিয়ে যান। মুক্তি দিন আমায়।”

এক মুহূর্ত চুপ থাকেন রেজওয়ান। তারপর ঠোঁটে এক বিদ্রূপাত্মক হাসি ফুটিয়ে বলেন,
“তুমি চাও আমি তোমায় ডিভোর্স দিই? এত সাহস কোথা থেকে আসে তোমার, নূজা? তুমি কী ভেবেছো, শেখ পরিবারের ছেলের বউ হয়ে চুপচাপ বেরিয়ে যেতে পারবে?”

আমি ঠান্ডা গলায় বললাম,
“যে বউয়ের পরিচয় স্বামী নিজেই অস্বীকার করে, তার বউ হয়ে থাকাও লজ্জার। আর হ্যাঁ, সাহস আমার নয়, আপনার ব্যবহার আমায় বাধ্য করেছে এই শক্ত শব্দগুলো বলার।”

উনি আর কিছু বলেন না। আমি রুম থেকে বেরিয়ে আসি। হৃদয়ের ভেতরে এক টানাপোড়েন, কিন্তু চেহারায় কঠোরতা বজায় রাখি। তিন বছর ধরে যেই অপেক্ষা করেছি, সেই অপেক্ষা আর চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছেটাও মরে গেল।


সন্ধ্যা নাগাদ অফিস ফাঁকা হয়ে আসে। আমি টেবিল গুছিয়ে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি, এমন সময় পেছন থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে আসে,
“চলে যাচ্ছ নাকি, নূজা?”

চমকে ঘুরে দেখি, রেজওয়ানের মা—নাসরিন ম্যাডাম।

“জ্বি, ম্যাডাম। আজ একটু তাড়াতাড়ি…”

তিনি সামনে এসে আমার হাতটা ধরে বললেন,
“তুমি কাঁদছো?”

আমি চোখ সরিয়ে নিয়ে বললাম,
“না তো, চোখে ধুলো পড়েছিল।”

নাসরিন ম্যাডাম জানেন আমি মিথ্যে বলছি, কিন্তু কিছু না বলে বললেন,
“তুমি রেজওয়ানকে সময় দাও, নূজা। ও বদলে গেছে, কিন্তু সব বদল খারাপ হয় না।”

আমি আস্তে করে বললাম,
“সবাই বদলায়, কিন্তু কেউ কেউ এমনভাবে বদলায়, যেন পুরোটাই অচেনা হয়ে যায়। আমি ওকে চিনি না, ম্যাডাম।”

তিনি আমার মাথায় হাত রাখলেন,
“চিনে ফেলবে। একটা সময় আসবে।”

আমি কিছু না বলে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসি। বুকের ভেতরে জমে থাকা কথাগুলো যেন আজ আকাশ ছুঁতে চায়, কিন্তু ভাষা খুঁজে পায় না।


রাত গভীর। আমি বারান্দায় বসে আছি। মাথার ওপর বিশাল আকাশ, দূরে জ্বলজ্বল করছে কিছু তারা, আর ভেতরে চলছে এক ধ্বংসযুদ্ধ। রেজওয়ানের সেই কথাগুলো বারবার কানে বাজছে।

কেউ যদি কাউকে ভালো না-ওবাসে, অন্তত সম্মান দিতে তো পারে?
আর আমি? আমি কী চেয়েছি? কেবল একজন স্বামী, যে পাশে বসে বলে, “তুমি কষ্ট পেয়েছো, জানি। আমি চেষ্টা করব সব ঠিক করতে।”

কিন্তু এই মানুষটা আমাকে দিয়েছে অপমান, সন্দেহ আর অবজ্ঞা।
আমি কি আর পারব এখান থেকে মাথা উঁচু করে বেরিয়ে আসতে?

ঠিক তখনই ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে অপরিচিত নাম্বার। রিসিভ করলাম।

“হ্যালো, নূজা? আমি রাহার ভাই, আরমান বলছি। কাল একটা মিটিং আছে ‘ই-সিস্টেম লিমিটেড’-এর সাথে। আপনি ওটা হ্যান্ডেল করবেন প্লিজ। রেজওয়ান ভাই বলেছে আপনি ভালোভাবে ম্যানেজ করবেন।”

আমি অবাক হয়ে বললাম,
“উনি নিজেই তো ছিলেন, উনি করতে পারতেন না?”

আরমান হাসলেন,
“উনি বলেছেন, আপনি যতটা দায়িত্ববান, ততটা ও এখনো হয়তো না।”

আমি হতবাক হয়ে ফোন রেখে দিলাম। রেজওয়ান এমন বলেছে? তাহলে কি সবকিছুই ভেঙে ফেলার মতো নয়? নাকি তার ভেতরেও কোনো দ্বিধা, কোনো না বলা কষ্ট আছে?

আমি জানি না।

শুধু জানি, এই গল্প এখানেই শেষ হবে না।
আমি_তরঙ্গিণী, স্রোতের মতো বয়ে চলবো… যতক্ষণ না নিজের তীর খুঁজে পাই।

চলবে...


📌 পরবর্তী পর্ব সবার আগে পেতে নিচের গ্রুপে জয়েন করুন:

🔥 YTS STORY – রোমাঞ্চকর, রোমান্টিক, সাসপেন্স ও হররের এক অসাধারণ গল্পের ভান্ডার! ❤️‍🔥 প্রতিটি গল্পে রয়েছে চমক, ভালোবাসা, ভয় আর উত্তেজনার এক অনন্য মিশেল! 😱👩‍❤️‍👨 আপনার হৃদয় কাঁপাতে তৈরি আমাদের গল্পগুলো — যা একবার পড়লে মনের গভীরে দাগ কেটে যাবে! 📚✨

https://t.me/YTSSTORIES


👉 Sumi Akhtar 💙




Post a Comment

0 Comments