অধিকার
দ্বিতীয় প্রহর
✍️ Sumi Akhtar
দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে চিনে নিতে এক মুহূর্ত সময় লেগেছিলো…
এই মুখটা তো চেনা! বুকের কাছে মাথা গুঁজে রাখা মেয়েটা ছিলো রাইনা — আমার ছোটবেলার বন্ধু, আমার প্রতিবেশী, আমার স্কুলজীবনের গল্পের অন্যতম চরিত্র।
প্রায় আট বছর পরে আজ হঠাৎ এসে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে।
– "ইরাদ... প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে নিও না, আমি কারো কাছে যেতে পারবো না!"
তার কণ্ঠ ভেঙে পড়ছিলো কান্নায়। আমি স্তব্ধ। মাথায় যেন বাজ পড়ছে, কী হচ্ছে বুঝতে পারছিলাম না।
– "রাইনা? তুমি এত বছর পরে… হঠাৎ... এইভাবে?"
সে আমার বুক থেকে মুখ তুলে তাকালো, চোখ লাল হয়ে উঠেছে কান্নায়।
– "তুই ছাড়া আমার আর কেউ নেই রে ইরাদ... সবাই আমাকে ফেলে দিয়েছে... কেউ বিশ্বাস করেনি আমাকে..."
আমি তাকে নিয়ে সোজা ড্রইংরুমে বসালাম।
জল এনে দিলাম। কিছুক্ষণের চুপচাপ অবস্থার পর সে কথা বললো...
– "বিয়ে করেছিলাম আমি, তুই শুনেছিলি নিশ্চয়... কিন্তু ওই মানুষটা... সে কখনো মানুষই ছিল না। বিয়ের পর থেকে শারীরিক নির্যাতন, সন্দেহ, লাঞ্ছনা... আমি মুখ বুজে সহ্য করতাম। তোর মতো কাউকে চাচ্ছিলাম পাশে, যে নিরবে ভালোবাসে... কিন্তু পেলাম না।"
তার চোখ থেকে আবার অশ্রু ঝরতে লাগলো।
আমি জানি না কী বলবো। এই জীবনে আমি হারিয়েছি, সেই কষ্ট এখনো কাঁদায় আমাকে। আর রাইনা—সে বাঁচার শেষ আশ্রয় খুঁজে ফিরছে।
হঠাৎ আমার বুকের ভেতর থেকে একটা অদ্ভুত ব্যথা আর মমতা উঠে আসলো।
নিজের জীবনের সব শূন্যতা এক মুহূর্তে মিলিয়ে গেলো যেন।
রাইনার হাতটা ধরে বললাম,
– "তুই থাক এখানে রাইনা, যতদিন ইচ্ছে তুই থাকবি। এই ঘর আজ থেকে তোর ঘর।"
রাইনা হঠাৎ একটু হাসলো, সেই পুরনো রাইনা যেন ঝলকে ফিরে এলো।
আমার বুকের ভেতর একটা শীতল শান্তির হাওয়া বইলো। হয়তো আল্লাহ কোনো এক রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন আমার জন্য।
আল্লাহ যদি কাউকে কেঁদে নেন, আবার কাউকে দিয়ে আনন্দ ফিরিয়ে দেন...
আর তখনই মুঠোফোনে একটা মেসেজ এলো—
"মাহিরা & তামিম – আজ আমাদের নতুন জীবনের শুরু। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন"
আমি ফোনটা নিঃশব্দে বন্ধ করে দিলাম।
আমার পাশে তখন রাইনা, নিঃশব্দে চা খাচ্ছিলো।
সে আমাকে বললো—
"ইরাদ, জানিস? আমি আবার বাঁচতে চাই..."
আমি জানালার দিকে তাকিয়ে দেখি বৃষ্টির শব্দটা থেমে গেছে।
বাতাসে কেমন একটা শান্তি...
হয়তো সত্যিই এটা নতুন শুরুর প্রহর।
চলবে...
📌 Sumi Akhtar
অধিকার
দ্বিতীয় প্রহর

0 Comments