গল্প: ফিরে আয় তুই আমার মনপাড়ায় চতুর্থ পর্ব


 গল্প: ফিরে আয় তুই আমার মনপাড়ায়

চতুর্থ পর্ব

লেখিকা: রামিসা লুবনা রাত্রি


পিহূ বারবার রাকেশের নাম্বারে ফোন দিচ্ছিল, কিন্তু প্রতিবারই শুনতে পাচ্ছিল—"আপনার ডায়ালকৃত নম্বরটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।"

Spin and Win 


সে বুঝে গেল, সাধারণ উপায়ে রাকেশের নাগাল পাওয়া যাবে না।


অন্যদিকে মাহির তাকে সন্দেহ করছে কিনা সেটা বোঝা কঠিন। কিন্তু পিহূর লক্ষ্য এখন একটাই—রাকেশ সম্পর্কে সত্য জেনে নেওয়া।


Spin and Win 



একদিন দুপুরে, পিহূর কলেজ বান্ধবী স্নিগ্ধা হঠাৎ ফোন করল—


"পিহূ, শুনেছিস? রাকেশকে নাকি আজ শহরের একটা পুরনো গেস্ট হাউসে দেখা গেছে!"


পিহূর বুকের ভিতরটা ধক করে উঠল।


"তুই নিশ্চিত?"


"হ্যাঁ রে! আমার ভাই ওখানে কাজ করে। গতকাল রাতে সে নিজে ওকে দেখেছে।"


আর এক মুহূর্তও দেরি করল না পিহূ। চুপিচুপি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল—কোনো কথা না বলে, কাউকে কিছু না জানিয়েই।

Spin and Win 



গেস্ট হাউসে ঢুকতেই, এক বিবর্ণ, হালকা গোঁফওয়ালা ছেলেকে দেখতে পেলো পিহূ।

চোখ-মুখ শুকিয়ে গেছে, হালকা দাড়ি, পরনে পুরনো জামা।


কিন্তু এই চেহারাটাই তো একসময় তার হৃদয়ের রাজা ছিল—রাকেশ!


"রাকেশ!"— কাঁপা গলায় ডাকল পিহূ।


ছেলেটা ধীরে ধীরে মুখ তুলল, তার চোখ যেন হাজার বছরের ক্লান্তি বহন করছে।

"পিহূ! তুমি… তুমি এখানে?"


"তুমি কোথায় ছিলে এতদিন? মাহির বলেছে তুমি জেল খেটেছো… প্রতারণার মামলায়!"


রাকেশের চোখে ক্ষীণ অশ্রু ঝিলিক দিল। সে একটানা চেয়ে থাকল পিহূর চোখে।

"তুমি… তার কথা বিশ্বাস করেছো?"


"আমি... জানি না কাকে বিশ্বাস করবো। তুমি কিছু বলো!" — পিহূর কণ্ঠ জড়িয়ে এলো কান্নায়।


রাকেশ এবার ধীরে ধীরে বলল,

"আমি প্রতারণা করিনি পিহূ। বরং আমি নিজেই ফাঁদে পড়েছিলাম। মাহির… ও-ই আমার সর্বনাশ করেছে। আমার নামে ভুয়া অভিযোগ এনে পুলিশে দিয়েছিল।"

Spin and Win 


পিহূর পা থেকে যেন মাটি সরে গেল।


"কি বলছো তুমি রাকেশ? মাহির?"


"হ্যাঁ। কারণ ও জানতো, তুমি আমাকে ভালোবাসো। ও আমাকে সরাতে চাইতো। আর ওর পরিবার… তারা আমাকে কখনো মেনে নেয়নি।"


পিহূর চোখ ছলছল করে উঠল। এখন সে নিজেই বুঝে উঠতে পারছে না—কাকে বিশ্বাস করবে?


তবে একটুকু বুঝেছে—গল্পের মোড় ঘুরে গেছে, আর এবার পিহূর হাতে উঠে এসেছে সত্যের চাবিকাঠি।


---


শেষ দৃশ্য—পিহূ গেস্ট হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে, চোখে আগুন।

সে বলে উঠল—"এবার আমি সব জানব, আর বিচার করব নিজের মতো। কেউ আমাকে চালাতে পারবে না।"


চলবে…

Post a Comment

0 Comments