প্রেমাঙ্গন


 


প্রেমাঙ্গন
লেখিকা: রুবাইয়াত_রাহা
সূচনা পর্ব 

পিছনের ফিতা খুলে নিল এক যুবক। মেয়েটির ধবধবে পেটে হাত রেখে একটানে তাকে কাছে টেনে নিল। শীতল ঘরটা যেন মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলো। বেনারসির আঁচল মেঝেতে পড়ে গেল। মেয়েটি কাঁপতে কাঁপতে জড়িয়ে ধরলো সেই পুরুষকে। দুজন মিলে যেন এক অন্য জগতের দরজা খুলে ফেললো।

পুরুষটির ঠোঁট নামলো মেয়েটির ঠোঁটে। এক নিশ্বাসে যেন সবটুকু অনুভব করে নিতে চাইছে। মেয়েটি প্রথমে থমকে গেলেও ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেললো নিজেকে। তাদের ভালোবাসা ঘিরে ধরলো সমগ্র রাতটাকে।

রাতটা ছিলো তাদের প্রথম—সদ্য বিবাহিত দম্পতি ইরফান ও ইশারা। পরিবারের পছন্দে বিয়ে হলেও হৃদয়ের সংযোগটা হতে দেরি হয়নি। শেখ বাড়ির একমাত্র উত্তরাধিকারী ইরফান, দাদু আজান শেখের আদরে বড় হয়েছে। দাদুর ইচ্ছাতেই সে এই বিয়েতে রাজি হয়।

ইরফান দ্বৈত স্বভাবের, কখনো বাধ্য সন্তান, কখনো উচ্ছৃঙ্খল তরুণ। মাঝে মাঝে ক্লাবে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে পার্টি—এসবই ছিলো তার স্বাভাবিক অভ্যাস। দাদু আজান শেখ ভাবলেন, সংসারী হলে হয়তো ইরফান বদলাবে। তাই সুশীল, শান্ত স্বভাবের ইশারাকে পছন্দ করে আনলেন নাতবউ করে।

ভোরের আলোয় ইরফান চোখ খুলে দেখলো, তার বুকের উপর ঘুমন্ত ইশারার মুখ। যেন শিল্পীর আঁকা এক নিখুঁত প্রতিকৃতি। ইরফানের চোখে নতুন নেশা জন্মালো—এই মেয়েটিই এখন তার জীবনের নতুন অধ্যায়।

সে ধীরে ইশারার ঠোঁটে চুমু দিলো। ইশারা চমকে উঠলো, বুঝে গেলো তার স্বামী জেগে উঠেছে, আবার নতুন করে ছুঁতে চাইছে। ব্যথা থাকলেও তার চোখে সুখের জল। এমন ভালোবাসা সে কখনো অনুভব করেনি।

সকালবেলা, নগ্ন শরীর চাদরে মুড়ে ইশারা চুপচাপ বসে। ইরফান গোসল সেরে এসে আবার তার পাশে দাঁড়ালো।

— "চলো, গোসলে যাবো? আমি নিয়ে যাবো নাকি?" চোখে দুষ্টু হাসি।

ইশারা লজ্জায় মুখ লুকালো। বিয়ের আগে এই মানুষকে দেখেওনি সে। বাবার কথামতো বিয়েটা করেছে, এখন এই অকস্মাৎ ভালোবাসা তাকে ভীষণ লাজুক করে তুলেছে।

— "তুমি তো লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছো! আমি তো লজ্জা রাখার মতো কিছু রাখিনি!" ইরফানের মুখে চাপা হাসি।

ইশারা বিছানা থেকে নামতেই ব্যথায় কুঁকড়ে গেলো। ইরফান বুঝে ফেললো, তার শরীর এখনো অভ্যস্ত হয়নি এমন ভালোবাসায়। সে ঝট করে ইশারাকে কোলে তুলে নিলো।

— "ছাড়ুন, কী করছেন!" ইশারার মুখে লাজুক প্রতিবাদ।

— "ভয় পেয়ো না, আজকের জন্য যথেষ্ট হয়েছে। শুধু গোসলঘর অব্দি পৌঁছে দিচ্ছি।"

গোসলঘরের দরজা বন্ধ করতে করতে ইশারার মনে হলো—এই ভালোবাসায় যেন এক গভীর নির্ভরতা আছে।

হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়া। বাইরে দাঁড়িয়ে চাঁদনী ভাবী, ইরফানের ফুফাতো ভাইয়ের স্ত্রী।

— "দেবরজী, দরজা খুলছো না কেন? বউ পেয়ে কি দিন-রাত ভুলে গেছো?"

ইরফান হাঁসলো—"ভুললে তো দরজা খুলতাম না ভাবী!"

তবে চাঁদনীর উপস্থিতি আজান শেখ ভালোভাবে নিলেন না।

— "তোমাকে বলেছিলাম ইরফানের কাছাকাছি আসবে না। যাও, সাগরের খেয়াল রাখো।"

চাঁদনী চুপচাপ সরে গেলো। আজান শেখ চাঁদনীকে সহজভাবে দেখেন না, তার অভিনয় ও তীক্ষ্ণ চালচলন ভালোভাবে বোঝেন।

এদিকে ইশারা গোসল শেষে চুল মুছছে, তখন ঘরে আসে দিতি—স্বাধীন ভাইয়ের স্ত্রী, তার নতুন জা। দিতি এগিয়ে এসে চুল আঁচড়ে দিতে দিতে বললো:

— "আমি তোমার বড় বোনের মতো, তাই একটা কথা বলি—এই বাড়িতে সবাই তোমার ভালো চায় না। চোখ খোলা রাখবে।"

ইশারা কিছুই বোঝে না, মাথা নাড়ায়। তবে দিতির চোখে এক সতর্কতার আভা।

— "অনেক সময় আপন মানুষই সবচেয়ে বেশি আঘাত করে।"

এরপর দিতির হাত ধরে সে বেরিয়ে এলো, নতুন বউকে দেখার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। ইশারা শুধু ভাবতে থাকে—এই সম্পর্কগুলো এত জটিল কেন? আগে কখনো এমন কিছু অনুভব করেনি সে।

চলবে...



Post a Comment

0 Comments